বেদের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিলো ? - সন্তবন্ধু মিলন রবিদাস

টপ পোষ্ট

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, December 5, 2023

বেদের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিলো ?

 





বেদের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিলো ? 

তস্মা'দ্যজ্ঞাৎ'সর্বহুত ঋচঃ সামা'নি জজ্ঞিরে।
ছন্দাংনি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তস্মা’দজাযত।।( ১)
যজুর্বেদ অধ্যায় ৩১ মন্ত্র ০৭
য়স্মাদৃচো' অপা'তক্ষন্ য়জুর্য়'স্মাদপাক'ষন্।
সামা'নি য়স্য লোমান্যথর্বংঙ্গিরসো মুখম্।
স্কম্ভং তং ব্রূহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।(২)
অথর্ববেদ কাং ১০ প্রপা ২৩ অনু ০৪ মং ২০

প্রথমে ঈশ্বরকে নমস্কার ও প্রার্থনা করিয়া , তৎ পশ্চাৎ বেদোৎপত্তি বিষয় অর্থাৎ কোথা হইতে বেদ উৎপন্ন হইয়াছে , তাহা লিখিত হইতেছে ।

( তস্মাৎ য়জ্ঞাৎ ) সৎ যাঁহার কদাপি নাশ হয় না চিৎ যিনি সদা জ্ঞান স্বরূপ , যাঁহার কদাপি লেশমাত্র অজ্ঞান নাই আনন্দ যিনি সদা সুখস্বরূপ এবং সকলের সুখদাতা , এবম্ভূত সচ্চিদানন্দাদি | লক্ষণযুক্ত সর্বত্র পরিপূর্ণ , সকলের উপাসনার যােগ্য , ইষ্টদেব ও সর্বশক্তিমান পরমব্রহ্ম হইতে , ( ঋচঃ ) ঋগ্বেদ ( য়জু ) যজুর্বেদ ( সামানি ) সামবেদ ( ছন্দাংসি ) এবং অথর্ববেদ প্রকাশিত হইয়াছে । 

এজন্য সকলেরই বেদশাস্ত্র গ্রহণ ও তদনুযায়ী আচরণ করা কর্তব্য । বেদ অনেক বিদ্যার আধার , ইহা প্রকাশ করিবার জন্য , ‘ জজ্ঞিরে ' এবং ‘ অজায়ত ’ এই ক্রিয়া দ্বয়ের প্রয়ােগ হইয়াছে । ঈশ্বর হইতে বেদ সকল উৎপন্ন হইয়াছে , ইহা অবধারণের জন্য , তস্মাৎ ' এই পদ দুইবার প্রযুক্ত হইয়াছে । বেদ মন্ত্র সকল গায়ত্রাদি ছন্দযুক্তহেতু , ' ছন্দাংসি ' এই পদ দ্বারা অথর্ববেদের উৎপত্তি প্রকাশ করিতেছে । শতপথ ব্রাহ্মণ এবং বেদ মন্ত্র প্রমাণ দ্বারা ইহা সিদ্ধ হইতেছে , যে ' যজ্ঞ ' শব্দে ' বিষ্ণু ' , এবং বিষ্ণু শব্দে সর্বব্যাপক পরমেশ্বরেরই গ্রহণ হইয়া থাকে , কারণ জগৎ উৎপত্তি করা , এক পরমেশ্বর ভিন্ন অন্যত্র বা অপরে ঘটিত পারে না । । ১ । ।

 ( যস্নাদৃচো অপা ) যে সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর হইতে , ( ঋচঃ ) ঋগ্বেদ , ( যজুঃ ) যজুর্বেদ ( সামানি ) সামবেদ ( আংগিরসঃ ) অথর্ববেদ , এই বেদ চতুষ্টয় উৎপন্ন বা প্রাদুর্ভূত হইয়াছে,
এবম্ভূত ঈশ্বর , আংগিরস অর্থাৎ অথৰ্ব্ববেদ যাঁহার মুখ স্বরূপ , সামবেদ যাহার লােমবৎ , যজুর্বেদ যাঁহার হৃদয় স্বরূপ , এবং ঋগ্বেদ যাহার প্রাণ স্বরূপ , ( ব্রহি কতমঃ স্বিদেব সঃ ) যে , যাঁহা হইতে চারি বেদ উৎপন্ন হইয়াছে , তিনি কোন দেব ?

 তাহা তুমি বল ? এই প্রশ্নের উত্তরে ভগবান বলিতেছেন , ( স্কংভ তং ) যিনি সমগ্র জগতের ধারণ কর্তা পরমেশ্বর , তাঁহাকেই স্কম্ভ বলা যায় , এবং সেই স্কম্ভকেই বেদ সকলের কর্তা প্রকাশক বলিয়া জানিবে সেই সর্বাধার পরমেশ্বর ভিন্ন , অন্য কোন দেব , বেদ কর্তা নহে , এবং তিনি ভিন্ন মনুষ্যের উপাসনা যােগ্য অন্য কোন ইষ্টদেব নাই । কারণ যে বেদকৰ্তা পরমাত্মাকে পরিত্যাগ করিয়া তৎ স্থানে অন্যর উপসনা " করে , সে নিশ্চয়ই হতভাগ্য সন্দেহ নাই । । ২ । ।

( এবং বা অরেৎস্য) এই মন্ত্রে মহাবিদ্বান যাজ্ঞবল্ক্য নিজ পত্নী মৈত্রেয়ীকে উপদেশ করিতেছেন , হে মৈত্রেয়ি ! যে পরমাত্মা আকাশ হইতেও বৃহৎ, তাহা হইতেই ঋক্ , যজুঃ , সাম ও অথর্ব , এই বেদ চতুষ্টয় নিঃশ্বাসের ন্যায় সহজভাবে নিঃসৃত হইয়াছে । যেরূপ শরীর হইতে শ্বাস সহজে নির্গত হইয়া পূনঃ সেই শরীরেই প্রবেশ করে , তদ্রূপ সৃষ্টির আদিতে পরমেশ্বর বেদ শাস্ত্রকে উৎপন্ন বা ( প্রাদুর্ভূত ) করিয়া , সংসারে উহাকে প্রকাশ করিয়া থাকেন ও পুনঃ প্রলয়কালে তিনি বেদশাস্ত্রকে সংসার হইতে অপসারিত করিয়া , নিজ ( অনন্ত ) জ্ঞান মধ্যে সদা স্থিত রাখেন । এইরূপে বীজাঙ্কুরবৎ পরমাত্মা কর্তৃক বেদশাস্ত্রের প্রাদুর্ভাব ও তিরোভাব হইয়া থাকে, অর্থাৎ যেরূপ বীজ মধ্যে প্রথম হইতেই অঙ্কুর বর্তমান থাকে , এবং তাহাই বৃক্ষরূপে প্রকাশিত হয় ও পুনঃ সেই বৃক্ষ আবার বীজরূপে পরিণত হয় , তদ্রূপ বেদ শাস্ত্র সদা ঈশ্বরের জ্ঞানে বিরাজমান থাকে , তাহার কদাপি নাশ হয় না , কারণ বেদ সাক্ষাৎ ঈশ্বরের বিদ্যা বা জ্ঞান , এজন্য ইহাকে নিত্য বলিযা জানিবে ।



মহর্ষি দয়ানন্দ স্বরস্বতী 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here