হিন্দুধর্মে মূর্তিপূজা কেন করা হয়? - সন্তবন্ধু মিলন রবিদাস

টপ পোষ্ট

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, November 15, 2023

হিন্দুধর্মে মূর্তিপূজা কেন করা হয়?


 



আসলেই মূর্তিপূজা কী?
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কি আদেও মূর্তিপূজা করেন?
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের মানুষরা মূর্তি ও ভাস্কর্যের এক হওয়া-না-হওয়া নিয়ে যখন নানামুখী তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত তখন আমারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা, যারা মূলত মূর্তি জিনিসটি ব্যবহার করি, তাদের কাছে মূর্তির অর্থ কী বা মূর্তিকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় বা এদেশের মানুষরা কতোটা জানেন?
তা নিয়ে আমাদের মনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়!
আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মূর্তিপূজা সম্পর্কে পড়ালেখা ও আলোচনার মাধ্যমে আমি যতোটা জেনেছি তার সারসংক্ষেপ শাস্ত্রের ভাষ্যে অনেকটা এরকম-
হিন্দু ধর্ম মতে মূর্তিপূজা বলে কিছু হয় না, হিন্দুরা যে পূজা করে তা আসলে প্রতিমাপূজা। (আসলে ঠিক তাও যে নয়, তা পরে বোঝা যাবে।)হিন্দুধর্মে প্রতিমা আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য করা হয়।
কোনো বস্তুর মধ্যে যখন ভগবানের অস্তিত্ব আহ্বান করা হয় এবং তাকে স্বয়ং ভগবানের প্রতীক মনে করা হয় তখন তাকে 'প্রতিমা’ অথবা ‘শ্রীবিগ্রহ' বলে। অর্থাৎ আপনার শো-কেস এ যেটা রাখা আছে সেটা অবশ্যই মূর্তি কিন্তু যে মুহূর্তে বিশেষ পূজার মাধ্যমে তার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় সেই মুহূর্ত থেকে সেটা হয়ে যায় 'প্রতিমা’ অথবা ‘শ্রীবিগ্রহ'।
এই প্রাণ প্রতিষ্ঠাকে অনেকেই “চক্ষুদান” বলেন।
এটাই আমাদের হিন্দুধর্মের আচার ও বিশ্বাস।
প্রতিমাপূজা হলো প্রতীকের মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রার্থনা করা। বিশেষভাবে শ্রদ্ধার সাথে সৃষ্টিকর্তার কোন বিশেষ শক্তির আহ্বান করাকেই পূজা বলে।
যেমনঃ নির্বাচনে কোনো একটি প্রতীককে ভোট দেয়া হয়, যার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে কোনো দল বিজয়ী হয় এবং দলের প্রধান তার মাধ্যমেই সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হন। এখানে যেমন সত্যিকার অর্থে প্রতীক বা অন্য কোথাও ভোট দেওয়া হয় না, তেমনি কোন ছবি, কাগজ বা প্রতীকের নয়, পূজা করা হয় দেবদেবীর, চূড়ান্ত অর্থে ঈশ্বরের গুণ ও আদর্শকে।
#স্বামী_বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘পুতুল পূজা করে না হিন্দু, কাঠ, মাটি দিয়ে গড়া মৃন্ময়ী মাঝে চিন্ময়ী হেরে হয়ে যায় আত্মহারা।'

১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে মূর্তিপূজা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘Hindus are not idol-worshipers. They are ideal-worshipers.’ অর্থাৎ, হিন্দুরা মূর্তি পূজারী নন, তারা আদর্শের পূজারী। মূর্তি হল একটি আদর্শের প্রতীক।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়।

হিন্দু দর্শন বলে, ঈশ্বর স্বয়ম্ভূ অর্থাৎ ঈশ্বর নিজে থেকে উৎপন্ন, তার কোন স্রষ্টা নাই, তিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা।
প্রাচীন ঋষিগণ বলে গিয়েছেন, ঈশ্বরের কোন নির্দিষ্ট রূপ নেই (নিরাকার ব্রহ্ম) তাই তিনি অরূপ, তবে তিনি যে কোন রূপ ধারণ করতে পারেন। কারণ তিনিই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী। ঋগ্বেদে বলা আছে ঈশ্বর ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’- ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ঈশ্বর সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে তিনি ‘অবাঙ্মানসগোচর’ অর্থাৎ ঈশ্বরকে কথা (বাক), মন বা চোখ দিয়ে ধারণ করা যায় না, তিনি বাহ্য জগতের অতীত।


ঈশ্বর সম্পর্কে আরো কিছু উদ্ধৃতি-
১. ‘একং সদ বিপ্র বহুধা বদন্তি’
(ঋগ্বেদ, ১/১৬৪/৪৬)
অর্থাৎ ‘সেই এক ঈশ্বরকে পণ্ডিতগণ বহু নামে ডেকে থাকেন।’

২. ‘একং সন্তং বহুধন কল্পায়ন্তি’
(ঋগ্বেদ, ১/১১৪/৫)
অর্থাৎ ‘সেই এক ঈশ্বরকে বহুরূপে কল্পনা করা হয়েছে।’

৩.ঋগ্বেদ ১০.৪৮.৫,
‘ঈশ্বর সমস্ত পৃথিবীকে আলোকিত করেন। তিনি অপরাজেয় এবং মৃত্যুহীন ও এই জগতের সৃষ্টিকারী।’

৪.যজুর্বেদ সংহিতা ৩২.১১,
‘ঈশ্বর যিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কিছুর মধ্যে তিনি অধিষ্ঠিত।’

৫.ঋগ্বেদ ১০.৪৮.১
‘ঈশ্বর যিনি সর্ব্বত্রই ব্যাপ্ত আছেন।’

৬. ‘দেবানাং পূর্বে যুগে হসতঃ সদাজায়ত’ (ঋগ্বেদ, ১০/৭২/৭) অর্থাৎ ‘দেবতারও পূর্বে সেই অব্যক্ত (ঈশ্বর) হতে ব্যক্ত জগত উৎপত্তি লাভ করেছে।’

৭.যজুবেদের ৪০ নম্বর অধ্যায়ের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে আছে, ‘সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নিরাকার ও পবিত্র।’

৮.যজুবেদের ৩২ নম্বর অধ্যায়ের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আছে- ‘ন তস্য প্রতিমা আস্তি’ অর্থ- ‘সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সাথে কারও তুলনা হয় না।’

৯. যজুর্বেদের ৪০.১, ‘এই সমস্ত বিশ্ব শুধু মাত্র একজন ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে। ”যিনি কখনই অন্যায় করেন না অথবা অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জনের ইচ্ছা রাখেন না।

১০.ছান্দোগ্য উপনিষদের ৬ নম্বর অধ্যায়ের ২ নম্বর পরিচ্ছেদের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে আছে- ‘একাম এবাদ্বিতীইয়ম।’ অর্থ- ‘স্রষ্টা মাত্র একজনই দ্বিতীয় কেউ নেই।’

১১.শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ৬ নম্বর অধ্যায়ের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে আছে- ‘না চস্য কসুজ জানিত না কধিপহ।’ অর্থ- ‘সর্ব শক্তিমান ঈশ্বরের কোন বাবা-মা নেই, তাঁর কোন প্রভু নেই, তাঁর চেয়ে বড় কেউ নেই।’

১২.যেহপ্যন্যদেবতাভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ।
তেহপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধিপূর্বকম্।।
(শ্রীশ্রীগীতা ৯/২৩)
অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! যারা অন্য দেবতাদের ভক্ত এবং শ্রদ্ধা সহকারে তাঁদের পূজা করে, প্রকৃতপক্ষে তারা অবিধি পূর্বক আমারই পূজা করে।


দেবদেবীগণ ঈশ্বর নন। ঈশ্বরকে বলা হয় নির্গুণ। অর্থাৎ জগতের সব গুণের (Quality) আধার তিনি। আবার ঈশ্বর সগুণও কারণ তিনি সর্বশক্তিমান। ঈশ্বর চাইলেই যে কো্নো গুণের অধিকারী হতে পারেন এবং সেই গুণের প্রকাশ তিনি ঘটাতে পারেন। দেবদেবীগণ ঈশ্বরের এই সগুণের প্রকাশ। অর্থাৎ ঈশ্বরের একএকটি গুণের সাকার প্রকাশই দেবতা। দেব বা দেবী। ঈশ্বর নিরাকার কিন্তু তিনি যেকোনো রূপে সাকার হতে পারেন, কারণ, তিনি সর্বক্ষমতার অধিকারী।
হিন্দুশাস্ত্র মতে মানুষ কখনোই ঈশ্বরের বিশালতা বা অসীমতাকে তার সসীম চিন্তা দিয়ে বুঝতে পারবে না। বরং সর্বগুণময় ঈশ্বরের কয়েকটি বিশেষ গুণকেই বুঝতে পারবে। আর এ রকম এক একটি গুণকে বুঝতে বুঝতে হয়ত কোন দিন সেই সর্ব গুণময়কে বুঝতে পারবে। আর মূর্তি বা প্রতিমা হল এসকল গুণের রূপকল্প বা প্রতীক।

এটা অনেকটা গণিতের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘x’ ধরার মতো। আদতে x কিছুই নয় কিন্তু এক্স ধরেই গণিতের সমস্যার উত্তর পাওয়া যায়।

অথবা ধরুন জ্যামিতির ক্ষেত্রে কোনো কিছু বিন্দু দিয়ে শুরু করা হয়। কিন্তু বিন্দুর সংজ্ঞা হলো যার দৈর্ঘ, প্রস্থ ও বেধ নাই, কিন্তু অবস্থিতি আছে- যা আসলে কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয় অথচ এই বিন্দুকে আশ্রয় করেই প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা থেকে হিমালয়ের উচ্চতা সব মাপা যায়।
আবার ভূগোল পড়ার সময় একটি গ্লোব রেখে কল্পনা করা হয় এটা পৃথিবী।
আবার দেয়ালের ম্যাপ টানিয়ে বলা হয় এটা লন্ডন, এটা ঢাকা, এটা জাপান কিন্তু ওই গ্লোব বা ম্যাপ কি আসলে পৃথিবী?
অথচ ওগুলো দেখেই পৃথিবী চেনা যায়।


তেমনি মূর্তির রূপ কল্পনা বা প্রতিমা, স্বয়ং দেবদেবী নন, তাঁদের প্রতীক, চিহ্ন বা রূপকল্প মাত্র। এগুলো রূপকল্প হতে পারে কিন্তু তা মনকে স্থির করতে সাহায্য করে এবং ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ সম্পর্কে ধারণা দেয়, শেখায় ঈশ্বর সত্য। সব শেষে পরম ব্রহ্মের কাছে পৌছাতে সাহায্য করে। হিন্দু ধর্মে পূজা একটি বৈশিষ্ট্য। কল্পনায় দাঁড়িয়ে সত্যে উত্তরণই পূজার সার্থকতা বলে মনে করা হয়।
হিন্দুরা মনে করেন, সব ধর্মেই রূপকল্প, চিহ্ন বা প্রতীক আছে এবং তা প্রত্যেক এর কাছে পবিত্র।
যেমন, খ্রিস্টানদের গির্জায় মাতা মেরী বা ক্রুশবিদ্ধ যীশুর প্রতিমা থাকে, যার সামনে তাঁরা নতজানু হয়ে প্রার্থনা করেন।
আবার মুসলিমরা কাবাশরীফের কালো পাথরকে পবিত্র মনে করে চুম্বন করে কিংবা কোন কাগজে আরবিতে আল্লাহ লেখা থাকলে তাকে সম্মান দেন, তাকে যেখানে সেখানে ফেলে দেন না। তাহলে ওই কাগজখানা কি সৃষ্টিকর্তা নিজেই?
উত্তর হলো না।
কিন্তু তারপরও তাকে সম্মান করে কারণ তা সৃষ্টিকর্তা নাম, ওটা দেখে সৃষ্টিকর্তার কথা মনে আসে, তার প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের নিরাকার ও সাকার উভয় রূপের উপাসনার বিধান আছে।
এই নিয়ে গীতার বেশ কিছু অধ্যায় পড়লেই জানা যার।
নিম্নে গীতার কিছু অধ্যায়ের শ্লোক এর নাম উল্লেখ করছি চাইলে প্রুভ দেখে নিতে পারেন!
চাইলে অনলাইন পিডিএফ বা ওয়েবসাইট থেকে পড়তে পারেন।
৭ম অধ্যায় বিজ্ঞান যোগঃ
( ২০,২১,২২,২৩,২৪নং শ্লোক )

শ্লোক: 20:
কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেহন্যদেবতাঃ ।
তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া ॥২০॥

কামৈঃ, তৈঃ, তৈঃ, হৃতজ্ঞানাঃ, প্রপদ্যন্তে, অন্য-দেবতাঃ,
তম্, তম্, নিয়মম্, আস্থায়, প্রকৃত্যা, নিয়তাঃ, স্বয়া ॥২০॥
অনুবাদ :জড় কামনা-বাসনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, তারা অন্য দেব-দেবীর শরণাগত হয় এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে বিশেষ নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা করে।

শ্লোক: 21:
যো যো যাং যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি ।
তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্ ॥২১॥

যঃ যঃ যাম্, যাম্, তনুম্, ভক্তঃ, শ্রদ্ধয়াঃ, অর্চিতুম্, ইচ্ছতি,
তস্য, তস্য, অচলাম্, শ্রদ্ধাম্, তাম্, এব, বিদধামি, অহম্ ॥২১॥
অনুবাদ : পরমাত্মারূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি ।

শ্লোক: 22:
স তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্তস্তস্যারাধনমীহতে ।
লভতে চ ততঃ কামান্ময়ৈব বিহিতান্ হি তান্ ॥২২॥

সঃ, তয়া, শ্রদ্ধয়া, যুক্তঃ, তস্য, আরাধনম্, ঈহতে,
লভতে, চ, ততঃ, কামান্, ময়া, এব, বিহিতান্, হি, তান্ ॥২২॥
অনুবাদ : সেই ব্যক্তি শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকে আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু অবশ্যই লাভ করেন।

শ্লোক: 23:
অন্তবত্তু ফলং তেষাং তদ্ ভবত্যল্পমেধসাম্ ।
দেবান্ দেবযজো যান্তি মদ্ভক্তা যান্তি মামপি ॥২৩॥

অন্তবৎ, তু, ফলম্, তেষাম্, তৎ, ভবতি, অল্পমেধসাম্,
দেবান্, দেবযজঃ, যান্তি, মদ্-ভক্তাঃ, যান্তি, মাম্, অপি ॥২৩॥
অনুবাদ : অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের আরাধনা লব্ধ সেই ফল অস্থায়ী। দেবোপাসকগণ দেবলোক প্রাপ্ত হন, কিন্তু আমার ভক্তেরা আমার পরম ধাম প্রাপ্ত হন।

শ্লোক: 26:
বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন ।
ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন ॥২৬॥

বেদ, অহম্, সম্-অতীতানি, বর্তমানানি, চ, অর্জুন,
ভবিষ্যাণি, চ, ভূতানি, মাম্, তু, বেদ, ন, কঃ-চন ॥২৬॥
অনুবাদ : হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না।

৯ম অধ্যায় রাজগুহ্য যোগঃ-
(২৩,২৪,২৫,২৬,২৭,২৮,২৯,৩০নং শ্লোক)
শ্লোক: 23:
যেহ্প্যন্যদেবতাভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ ।
তেহপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধিপূর্বকম্ ॥২৩॥

যে, অপি, অন্যদেবতাঃ, ভক্তাঃ, যজন্তে, শ্রদ্ধয়া, অন্বিতাঃ,
তে, অপি, মাম্, এব, কৌন্তেয়, যজন্তি, অবিধি-পূর্বকম্ ॥২৩॥
অনুবাদ : হে কৌন্তেয় ! যারা অন্য দেবতাদের ভক্ত এবং শ্রদ্ধা সহকারে তাঁদের পূজা করে, প্রকৃতপক্ষে তারা অবিধিপূর্বক আমারই পূজা করে।

শ্লোক: 24:
অহং হি সর্বযজ্ঞানাং ভোক্তা চ প্রভুরেব চ ।
ন তু মামভিজানন্তি তত্ত্বেনাতশ্চ্যবন্তি তে ॥২৪॥

অহম্, হি, সর্বযজ্ঞানাম্, ভোক্তা, চ, প্রভুঃ, এব, চ,
ন, তু, মাম্, অভিজানন্তি, তত্ত্বেন, অতঃ, চ্যবন্তি, তে ॥২৪॥
অনুবাদ : আমিই সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা ও প্রভু। কিন্তু যারা আমার চিন্ময় স্বরূপ জানে না, তারা আবার সংসার সমুদ্রে অধঃপতিত হয়।

শ্লোক: 25:
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি মদ্ যাজিনোহপি মাম্ ॥২৫॥

যান্তি, দেবব্রতাঃ, দেবান্, পিতৃন্, যান্তি, পিতৃব্রতাঃ,
ভূতানি, যান্তি, ভূত-ইজ্যাঃ, যান্তি, মদ্-যাজিন্ঃ, অপি, মাম্ ॥২৫॥
অনুবাদ : দেবতাদের উপাসকেরা দেবলোক প্রাপ্ত হবেন; পিতৃপুরুষদের উপাসকেরা পিতৃলোক লাভ করেন; ভূত-প্রেত আদির উপাসকেরা ভূতলোক লাভ করেন; এবং আমার উপাসকেরা আমাকেই লাভ করেন।




নিরাকার ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নাই, থাকা সম্ভবও না। যারা ঈশ্বরের অব্যক্ত বা নিরাকার উপাসনা করেন তাঁদের বলা হয় নিরাকারবাদী।
আর যারা ঈশ্বরের সাকার রূপের উপাসনা করেন তাঁরা সাকারবাদী।
গীতায় বলা আছে, যারা নিরাকার, নির্গুণ ব্রহ্মের উপাসনা করেন তারাও ঈশ্বর প্রাপ্ত হন। তবে নির্গুণ উপাসকদের কষ্ট বেশি। কারণ নিরাকার ব্রহ্মে মনস্থির করা স্বভাবগতভাবে অস্থিরমতি বলে মানুষের পক্ষে খুবই ক্লেশকর কিন্তু সাকারবাদীদের সাকার ভগবানের উপর মনস্থির করা তুলনামূলক সহজ।
জ্ঞানী হিন্দুরা নিজেদের কখনোই পৌত্তলিক মনে করেন না।
তারা মনে করেন অন্য ধর্মের লোকেরা তাদের দর্শন সম্পর্কে ভালো মতো না জেনেই ‘মূর্তিপূজা’(?) দেখে মন্তব্য করে বসেন, হিন্দুরা পৌত্তলিক।
কিন্তু সঠিক দর্শন জানলে আমাদের তথা অন্যধর্মের মানুষদের এ ভুল ধারণা ভাঙবে বলে বিশ্বাস করি আমি ।
আমি আগেই বলেছি, হিন্দুদের দেবতা অনেক কিন্তু ঈশ্বর এক।
ঈশ্বরের কোনো প্রতিমা নেই।
দেবতারা হলেন ঈশ্বরের এক একটি রূপের বা গুণের প্রকাশ।
আর মূর্তি বা প্রতিমা হলো সে সকল গুণের প্রতীক, চিহ্ন বা রূপকল্প মাত্র।


মূৃর্তিপূজা আসলে একটি Misnomer বা ভুলনাম। পূজায় মূর্তি ব্যবহার করা হয়, মূর্তির পূজা করা হয় না।
তথ্যসূত্রঃ
১.ছান্দোগ্যোপনিষদ - ১ম ও ২য় খন্ড By
দুর্গাচরণ সাংখ্য বেদান্ততীর্থ।
২.ঈশ্বরের অবতার রহস্য By ভবেশ রায়।
৩.হিন্দু ও হিন্দুধর্ম কী? By মহাত্মা গান্ধী।
৪.বেদ সমগ্র অখণ্ড By ডঃ অলোক কুমার সেন।
৫.শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here