সমগ্র ধরনীতে যেমন প্রতিটি বস্তু বা কর্মের পরিপূরক অপর কোন বস্তু বা কর্ম রয়েছে, তেমনি স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। কেউ কারো দাস বা কেউ কারো অধিপতি নয়। সমাজে যে সকল কুসংস্কার প্রত্যহ আমরা দেখতে পাই, যেগুলো ধর্ম বলিয়া আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়, বাস্তবিক অর্থে এগুলো দৃশ্যমান নয়। আমাদের সমাজে স্বামী ও স্ত্রী র মাঝে যে শ্রেষ্ঠত্বের মানসিকতা লক্ষ্য করা যায় এরও কোন অস্তিত্ব বেদে দৃশ্যতম নয়। বরঞ্চ, স্বামী এবং স্ত্রীকে সমান ও পরিপূরক বলা হয়েছে।
➤অহং কেতুরহং মূর্ধাহমুগ্রা বিবাচনী ।
মমেদনু ত্রুতুং পতিঃ সেহানায়া উপাচরেৎ ।।
মূর্ধা) আমি শ্রেষ্ঠ (অহং উগ্রা বিবাচনী) আমি
ধৈর্য্য শালিনী বক্তৃতা কারিণী (সেহানায়াঃ) শত্রু
নাশিনী (পতিঃ) স্বামী (মম) আমার (অনু) অনুকূল
থাকিয়া (ত্রুতুং উপাচরেৎ) গৃহ কর্ম সম্পাদন করুন।
ঋগ্বেদ ১০।১৫৯।২।
আমি জ্ঞানবতী, গৃহে মুখ্য
স্থানীয়া ধৈর্য্য শালিনী, বক্তৃতাকারিণী ও
শত্রুনাশিনী। আমার পতি আমার অনুকূলে থাকিয়া
গৃহকর্ম সম্পাদন করুন।
➤মম পুত্রাঃ শত্রুহণোহথোমে দুহিতা বিরাট্।
উতাহমস্মি সঞ্জয়া পতৌ মে শ্লোক উত্তমঃ।।
শত্রুনাশী (মে) আমার (দুহিতা) কন্যা (বিরাট)
তেজস্বিনী (অহম্) আমি (সঞ্জয়া অস্মি) বিজয়া
হই (মে পত্যৌ উত্তমঃ শ্লোকঃ) আমার পতির
উত্তম প্রশংসা হউক।
ঋগ্বেদ ১০।১৫৯।৩ ।
আমার কন্যারা তেজস্বিনী হউক। আমি বিজয়ী
হইব এবং আমার পতির সুযশ হউক।
➤শিবা ভব পুরুষেভ্যো গোভ্যো অশ্বেভ্যঃ
শিবা।
শিবাস্মৌ সর্ব্বস্মৈ ক্ষেত্রায় শিবা ন ইহৈধি।।৩
গো ও অশ্বের প্রতি (শিবা ভব) কল্যাণ কারিণী
হও (নঃ) আমাদের জন্য (শিবা হই এধি) কল্যাণ
কারিণী রূপে এখানে এস।
অথর্ব্ববেদ ৩।২৮।৩।
কল্যাণকারিণী হও, পতিগৃহের জন্য কল্যাণকারিণী
হও, আমাদের জন্য কল্যাণকারিণী রূপে এখানে
এস।
➤আশাসানা সৌমনাশং প্রজাং সৌভাগ্যং রয়িম্।
পত্যুরনুব্রতা ভূত্বা সং নহ্যস্বামৃতায় কম্।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।১।৪২)
➤পুনঃ পত্নিমগ্নিরদাদায়ুসা সহ বর্চসা।
দীর্ঘায়ু রস্যা যঃ পতির্জীবাতি শরদঃ শতম্।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।২)
➤সুমঙ্গল প্রতরণী গৃহাণাং সুশেবাপত্যে শ্বশুরায় শংভূঃ।
স্যোনা শ্বশ্যৈ্ব প্র গৃহান্ বিশেমান্।।
(১৪।২।২৬)
➤ স্যোনা ভব স্বশুরেভ্যঃ স্যোনা পত্যে গৃহেভ্যঃ।
স্যোনাহস্যৈ সর্বস্যৈং বিশে স্যোনা পুষ্টায়ৈষাং ভব।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।২৭)
➤ ইয়ং নার্য্যুপ ব্রুতে পূল্যান্যাবন্তিকা।
দীর্ঘায়ু রস্তু মে পতিজীর্বাতি শরদঃ শতম্।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।৬৩)
➤ যথা সিন্ধুর্ণদীনাং সম্রাজ্যং সুষুবে বৃষা।
এবা ত্বং সম্রাজ্ঞ্যেধি পত্যুরস্তং পরেত্য।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।১।৪৩)
➤ইহৈব স্তং মা বি যৌষ্টং বিশ্বমায়ুর্বশ্নুতম্।
ক্রীড়ান্তৌ পুত্রৈনর্প্তৃভিমোর্দমানৌ স্বস্তকৌ।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।২২)
➤স্যোনাদ্যোনেরধি বুধ্যমানৌ হসামুদৌ মহসা মোদমানৌ।
সুগূ সুপুত্রৌ সুগৃহৌ তরথেঃ জীবাবুষসো বিভাতীঃ।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।৪৩)
#বেদ বলেছে-
➤অমোহমস্মতি সা ত্বং সামাহম স্ম্যৃক্ত্বংদ্যৌরহং পৃথিবী ত্বম্।
তাহিব সং ভবাব প্রজামা জনয়াবহ্নৈ।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।৭১)
➤উত ত্বা শশীয়সী পুংসো ভবতি বস্যসী।
অদেবত্রাদরাধসঃ।।
(ঋগ্বেদ ৫।৬১।৬)
➤ সম্রাজ্ঞ্যেধি শ্বশুরেশু সম্রাজ্ঞ্যুত দেবৃষু।
ননান্দুঃ সম্রাজ্ঞ্যেধি সম্রাজ্ঞ্যুত শ্বশ্র্বাঃ।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।১।৪৪)
➤সুমঙ্গলী রিয়ং বধূরিমাং সমতে পশ্যত।
সৌভাগ্য মধৌ দত্ত্বা দৌর্ভাগ্যৈর্বিপরেতন।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।২।২৮)
➤ ইহৈব স্তং মা বি যৌষ্টং বিশ্বমায়ুর্বশ্নুতম্।
ক্রীড়ান্তৌ পুত্রৈনর্প্তৃভিমোর্দমানৌ স্বস্তকৌ।।
(১৪।২।২২)
#বেদ বলেছে:-
➤যা দম্পতী সমনসা সুনুত আ চ ধাবতঃ।
দেবাসো নিত্যয়াহশিরা।।
(ঋগ্বেদ ৮।৩১।৫)
➤প্রতি প্রাশব্যাঁ ইতঃ সম্যঞ্চা বর্হিরাশাতে।
ন তা বাজেষু বায়তঃ।।
(ঋগ্বেদ ৮।৩১।৬)
➤পুত্রিণা তা কুমারিণ বিশ্বমায়ুর্র্যশ্নুতঃ।
উভা হিরণ্য পেশসা।।
(ঋগ্বেদ ৮।৩১।৮)
#বেদ বলেছে:-
➤ গৃহ্ণামি তে সৌভগত্বায় হস্তং ময়া পত্যা জরদষ্টি র্যথাসঃ।
ভগো অর্য্যমা সবিতা পুরন্ধির্মহ্যং ত্বাদুর্গার্হপত্যায় দেবাঃ।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।১।৫০)
➤ ভগস্তে হস্তমগ্রহীং সবিতা হস্তমগ্রহীৎ।
পত্নী ত্বমসি ধর্ন্মণাহং গৃহপতিস্তব।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।১।৫১)
➤মমেয়মস্ত্ত পোষ্যা মহং ত্বাদাদ্বৃহস্পতিঃ।
ময়া পত্যা প্রজাবতি সংজীব শরদঃ শতম্।।
(অথর্ব্ব বেদ ১৪।১।৫২)
#বৈদিক মাতৃত্ব

যাসাং দ্যৌঃ পিতা পৃথিবী মাতা সমুদ্রো মূলংবীরুধা বভূব।
তাস্ত্বা পুত্রবিদ্যায় দৈবীঃ প্রাবন্ত্বোষধয়ঃ।।
(অথর্ব্ববেদ ৩।২৩।৬)
➤- হে স্ত্রী! যে ওষধি সমূহের দ্যুলোক পিতা,
পৃথ্বীলোক মাতা এবং সমুদ্রলোক মূল আধার সেই ওষধি সমূহ তোমাকে সন্তান লাভের জন্য দান করিতেছি। দিব্য গুণযুক্ত ওষধি সমূহ তোমাকে রক্ষা করুক।
 রাকামহং সুহবাং সুষ্ঠুতী হুবে শৃণোতু ন সুভগা বোধতু ত্মনা।
সীব্যত্বপঃ সূচ্যাহচ্ছিদ্যমানয়া দদাতু বীরং শতদায় মুক্ থ্যম্।।
(ঋগ্বেদ ২।৩২।৪)
➤- আমি দানশীল আবাহনযোগ্যা স্ত্রীকে স্তুতি দ্বারা আবাহন করিতেছি। সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আমার আবাহন শ্রবণ করিয়া আমাকে বিশেষ ভাবে উপলব্ধি করুক। সূক্ষ্ম সূচি দ্বারা সীবন করিবার ন্যায় অতি সাবধানে সে প্রজনন কর্ম সম্পন্ন করুক। সে আমাকে দানবীর বলবান যশস্বী পুত্র দান করুক।
 দশ মাসা ঞ্ছশয়ানঃ কুমারো অধি মাতরি।
নিরৈতু জীবো অক্ষতো জীবো জীবন্ত্যা অধি।।
(ঋগ্বেদ ৫।৭৮।৯)
➤- হে পরমাত্মা! দশমাস পর্য্যন্ত মাতৃগর্ভে সুকুমার জীব সুপ্ত থাকিয়া যেন প্রাণ ধারন করে এবং জীবিতা মাতার গর্ভ হইতে যেন বিনা কষ্টে ভূমিষ্ঠ হয়।
®বাংলাদেশ অগ্নিবীর
তথ্যসূত্র


No comments:
Post a Comment